কতদিন…
- মোঃ তৌহিদুর রহমান
কতদিন … হয়না… দেখা
প্রাণ খুলে বলা হয়না কথা ….
ঠিক কতটা দিন…
হিসেব কষে বলতে পারব না।
হয়তো অনেকদিন হবে,
হয়তো এক নক্ষত্রসম সময়।
ঠিক যেমন…
আমার স্বর্গীয় পিতার সাথে
আমার বর্তমান সম্পর্ক।
লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকেও
অত্যাশ্চর্যভাবে
যাঁর অস্তিত্ব
প্রতিটি মুহূর্তে বিরাজমান।
ঠিক তেমনি…
তব অস্তিত্ব অনুভব
সর্বাঙ্গীন হৃদয়ে।
সময় গড়িয়ে যায়
আপনার নিয়মে।
সকাল থেকে রাত,
তাহাজ্জুদ থেকে এশা।
দিন—সপ্তাহ—মাস—বছর—যুগ।
কতটা কাল এভাবে পেরিয়ে যায় জীবন থেকে!
ইদানীং প্রায়ই মনে পড়ে
শৈশব-কৈশোরের সেই
দূরন্ত দিনগুলির কথা।
কি ডানপিটেই না ছিলাম,
মাটির হাড়ির ভাঙা টুকরো
আর রাস্তায় পড়ে থাকা
পরিত্যক্ত সিগারেট প্যাকেট—
স্টার, ক্যাপস্টেন, মার্লবোরো, কে-টু, বগা—
দিয়ে চলতো বন্ধুদের সাথে
মজার তাস খেলা
আর কিল-কিল খেলা।
সে এক মধুর ইতিহাস!
এক্কাদোক্কা, গাদোন, দাঁড়িয়াবান্ধা,
গোল্লাছুট, কানামাছি, ওপেনটুবায়োস্কোপ,
ডাংগুলি, লাটিম।
ঘরে চলতো কেরাম, দাবা, লুডু,
বাগাডুলি, চোর-পুলিশ—
আরও কত কি!
আহা, কি মধুর!
শৈশবের সেই দিনগুলি!
সম্বিত ফিরে আসে,
মনটা আজ সত্যিই ভীষণ আবেগপ্রবণ।
ঠান্ডা চোখে তাকাই চারিদিক,
দেখি স্নায়ুযুদ্ধ থেকে
শ্রমিকের সুযোগসন্ধানী দাবীর মিছিল।
জিম্মিদশা, বন্দীত্ব,
রক্তাক্ত ও টালমাটাল যুদ্ধশেষে,
অবশেষে আসে ভূমিধস জয়।
মানবতার জয়।
শক্ত হাতে ধরিলো হাল, ধরিলো যে নাবিক,
শান্ত হৃদয়ে কে তার রেখেছে খবর আজি,
শানিত হৃদয়ে বারবার ফিরে আসে তব স্মৃতি।
আজ এসেছে নতুন দিন,
স্নায়ুযুদ্ধ থেকে নিঃসঙ্গ পরিবর্তনের দিনে।
যেখানে সামনে রয়েছে, পেছনে না ফেরার বার্তা।
এ যুদ্ধ একান্তই নিজের সাথে নিজের,
যেখানে প্রতিটি মুহূর্তের দায়িত্ব
একান্তই আমার।
২৪.৪.২০২৫
