Logo1

বিশ্বাসের আলো

🌟 বিশ্বাসের আলো

✍️ মোঃ তৌহিদুর রহমান

জীবনের পথে পথিক আমি, বহি ভাঙা স্বপ্নের ভার,
আশার প্রদীপ নিভে গেলে, কে দেয় সান্ত্বনার?
চোখের জলে ধুয়ে যায়, ক্লান্ত হৃদয়ভূমি,
তবুও ভেতরে বাজে সুর—“ভয় কোরো না তুমি।”

দেখি না তো, ছুঁই না তো, তবু অনুভবে থাকো,
ঘন অন্ধকারে একটুখানি আলো হয়ে ডাকো।
আমার ব্যথা, আমার প্রশ্ন, তুমিই জানো সব,
জীবনপথে তোমার প্রভাব সদা করি অনুভব।

বিশ্বাস মানে পরম আলো, যে জ্বলে অন্তরে,
অদৃশ্য হলেও পথ সে দেখায়, সাহসের কণ্ঠস্বরে।
কখনো মানুষ, কখনো ঈশ্বর—রূপ নেয় নানা ধাঁচে,
বিশ্বাসে মানুষ হয় বলিয়ান—ভাঙেনা দুঃখের খাঁচে।

যখন পথ হারায় মন, শূন্য লাগে সব,
তখন হৃদয় বলে ওঠে—”আছেন তো মহান রব!”
বিশ্বাস মানে আকাশ ছোঁয়া এক শান্ত মধুর ডাক,
ভয়ও যেখানে থেমে যায়, মুছে দুঃখ-আঁক।

এই যে আমি দাঁড়িয়ে আছি, অথৈ মহাসমূদ্র পাড়ে,
ভরসা শুধু তোমার—ওগো দয়াময়, তব নামটি হৃদয় জুড়ে।
হে প্রভু, হে অদৃশ্য প্রেম, বিশ্বাসেই বাঁচি আমি,
তুমি ছাড়া কেহ নেই যে আমার—তুমিই চিরস্বামী।

Logo1

ভালো মানুষ -০১

ভালো মানুষের একটা লিস্ট করছি!! যেখানেই যাকে ভালো কিছু করতে দেখছি তাকেই নোট বইয়ে বুক করছি!! নামধাম লিখে তার বর্ণনা দিয়ে রাখছি!!

আজকে কড়া রোদে বনানী যাওয়ার সময় দেখালাম এক চাইনিজ নাক বোচা রিকশায় হুড উঠিয়ে যাচ্ছে আর তার হাতের ছাতা ধরে আছে রিকশাআলার মাথার উপর! লজ্জা পেলাম খুব, আমার রিকশার হুড ফেলে দিলাম, রিকশাআলা আর আমি দুজনেই গায়ে রোদ মেখে এগিয়ে যেতে লাগলাম!! নোট বইয়ে চাইনিজ বেটার নাম উঠালাম “নাক বোচা” নামে!!

শাহবাগে বন্ধুর অপেক্ষায় বিড়ি ফুকতে ফুকতে চোখ গেলো এক বালিকার উপরে!! সুন্দরী বালিকা নিজ হাতে ভাত খাইয়ে দিচ্ছে এক বৃদ্ধাকে!! বালিকার পোশাক বলে সে বৃদ্ধার সমাজের কেউ নয় আর বৃদ্ধার পোশাকহীন দেহ আমাকে জানিয়ে দিচ্ছে সেই আমার বাংলাদেশ!! যাইহোক নোট বইয়ে বালিকার নাম দিলাম “একজন মমতাময়ী”!!

শাহবাগে আরেকটা ছেলেকে দেখলাম বসে বসে বেলি ফুলের মালা বানাচ্ছে!! পাশে এক ছোট মেয়ে বসে আছে!! মেয়েটার লাল চুল আর পরনে ছেড়া জামা!! ছেলেটা মেয়েটাকে ফুল বানিয়ে দিচ্ছে আর বলছে, কষ্টের টাকা দিয়ে ফুল কিনে মালা বানায়া দিতেছি সব বিক্রি করে আসবি, আর বিক্রি শেষ করে ভাত খাবি আর যদি তোরে দেখি ভিক্ষা করতে তাইলে তোর খবর আছে!! বিকেলে কাজ শেষে স্কুলে চলে আসবি!! বুঝছিস? মেয়েটা মাথা নেরে বুঝে ফুল হাতে চলে গেলো!! আমি ছেলেটাকে বললাম, ভাই ফুল কিনে না দিয়েতো আপনি মেয়েটাকে খাবার কিনেই দিতে পারতেন!! ছেলেটা বলল, ভাই আমি দশ বারোটা ছেলে মেয়ে পড়াই এদের সবাইকে নিজের পকেটের টাকা দিয়ে খাবার কিনে দেয়ার সামর্থ্য আমার নাই, তাই এদের ফুল কিনে মালা বানিয়ে দেই তাতেই এদের খাবার হয় আর যে টাকা বাচে তা দিয়ে এরপর দিন আবার ফুল কিনে দেই!! আর বিকেল হলে এদের পড়তে বসাই!! ছেলেটার নাম ভালো মানুষের লিষ্টে উঠানোর আগে তার হাত ছুয়ে দেখলাম!! ভালো মানুষের ছোয়ায় নিজে যদি ভালো হই!

ভালো মানুষের তালিকায় নাম দিলাম সালমার!! আহত পুলিশকে ওড়না দিয়ে কাধে বেধে সালমা দেখিয়ে দিলো নারী শুধু সংসারের ভার কাধে নেয় না, নেয় মৃত প্রায় সমাজেরও!!

যোগ হলো হাসানের নাম!! রং তুলি দিয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে যৌতুক বিরোধী আন্দোলন!! যেখানে পারছে লিখে যাচ্ছে “যৌতুক নেয়া আর ভিক্ষা চাওয়া এক জিনিস”!!

জয়নাল সাহেবের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষ গড়ার!! পানি পার হয়ে ছাত্র ছাত্রীরা স্কুলে আসতে পারতেছে না তাই নিজেই নৌকা নিয়ে নেমে গেলেন পানিতে!! শিক্ষক থেকে হলেন মাঝি! মানুষ গড়ার কারিগর মানুষ গড়ছেন মাঝি হয়ে!! জয়নাল সাহেব আমন্ত্রণ আপনাকে ভালোমানুষের তালিকাতে!!

ভালোমানুষের তালিকাতে নাম দিলাম কিছু শিখ মানুষের!! লন্ডনে রায়োটের সময় মুসল্লিদের নামাজের সময় যেন কেউ মুসল্লিদের ক্ষতি করতে না পারে তা তাই মসজিদের বাহিরে লাঠি হাতে দাড়িয়ে পাহারা দিচ্ছিলো কিছু শিখ মানুষ!! আমি সিওর সেই দিন মুসল্লিদের নামাজের দোয়ায় ছিলো “করুনাময় তোমার রহমতের দড়জা খুলে দাও ওই শিখ ভাইদের জন্যে যারা তোমাকে সেহ্জদা দেয়ার সময় নিরাপদে রেখেছিলো আমাকে”

নাহ্!! ভালোমানুষের সংখ্যাতো এত কম না!! নোট বইয়ে একের পর এক নাম যোগ হচ্ছে!! আচ্ছা এই ভালোমানুষের নাম গুলো দিয়ে কি করবো? এই ভালোমানুষের নামের নোট বইটা তুলে দিবো ছেলেমেয়ের হাতে!! শোনো পোলাপান, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার দরকার নাই!! জীবনে কিছু হতে হলে নোট বইয়ের এই মানুষ গুলার মত হইও!! যদি কখনো রাস্তায় এই মানুষ গুলার সাথে দেখা হয় দৌড়ে গিয়ে তাদের হাত ছুয়ে বলবে, “আমার মাথায় হাত রেখে একটু দোয়া করবেন, যেন আমি মানুষ হই”!!

জীবনে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার আগে মানুষ হওয়াটা খুব জরুরি!! খুব জরুরি!!

3d3bc5dd-f847-458e-b05e-707cc6a87811

রাফির মেয়ের চোখে লিপিকে খুঁজি

রাফির মেয়ের চোখে লিপিকে খুঁজি

  • মোঃ তৌহিদুর রহমান।

আমি তো হয়েছি নানা বহুবার,
হ্যাপীর কাব্য, পপির বিভা দিয়েছে সেই উপহার।
তবু আজকের দিন এক আলাদা আলো,
হারানো বোনের ছবি আজ খেলে চোখের পালো।

বাড়ি ভরে এলো খুশির সংবাদ,
রাফির ঘরে এলো সোনালী ভোরের আবাদ।
নতুন এক প্রাণ, এক ফুলের কুঁড়ি—
জন্ম নিলো আমার বোন লিপির স্মৃতির ঝুড়ি।

লিপি, তুমি যে ছিলে আমার হৃদয়ের গান,
তোমার হাসি, তোমার ছায়া ছিলো অফুরান।
তোমার সেই ছায়া আজ রাফির কন্যায় মেলে,
তোমার স্নেহ যেন বাতাসে খেলে।

এই শিশুর কানে বাজে তোমার গান,
তার চোখে দেখি তোমার সন্ধ্যাবেলার জান।
এই নতুন প্রাণে তুমি ফিরেছো ফিরে,
আমার বুকজুড়ে তুমিই আছো ধীরে ধীরে।

নতুন পাতায় লেখা হলো প্রিয় নামের ছায়া,
রাফির মেয়েতে বেঁচে থাকো তুমি, চিরায়ু মায়া।
আজ আমি শুধু নানা নই, এক স্মৃতির পাহারাদার,
তোমার ভালোবাসা রইলো তার প্রতিটি প্রহর জুড়ার।

আরও এক বিশেষ উপলক্ষ এলো ঘরে ঘরে,
আমাদের জেনারেশনে নতুন অতিথি এলো ধরণির তরে।
প্রজন্মের ধারা এগিয়ে চলেছে প্রাণে প্রাণে,
নতুন পাতায় লেখা হলো ইতিহাসের নতুন গানে।

আজ আমি শুধু নানা নই, এক বংশের উত্তরসূরির সাথী,
লিপির ভালোবাসা বুনে রাখবো এই শিশুর বুকে জাঠি।
তার চোখে খুঁজবো স্মৃতির রং, সময়ের হারানো গান,
এই সন্তানেই জেগে উঠবে লিপির অতুল স্পন্দন-প্রাণ।

blog-1

নিভৃত ডাক

নিভৃত ডাক

মোঃ তৌহিদুর রহমান

এই শুনছো? শুনতে কি পাচ্ছো আমার কথা?
অন্তর গহীন থেকে কে যেন ডাক দিয়ে যায় থেকে থেকে
ছায়াহীন, অস্তিত্বহীন, অথচ কি নির্ভিক, দৃঢ় চিত্তে…
সে কি আমি? নাকি আমারই ভুলে যাওয়া সত্ত্বা?

কখনো সে কান্নায় ভেজায় নীরব রাত,
কখনো সে ঝড় তোলে সাহসের প্রহরজাত।
জীবনের ভিড়ে আমি যাকে খুঁজি,
সে কি মুখ লুকিয়ে রয় আমারই রক্তস্রোতে সুপ্ত?

আমি যাকে ভালোবাসি,
সে কি আমি নই?
যার কাঁধে হাত রাখি,
ভরসা খুঁজি, শান্তি পাই—
সে কি আমারই অন্তরের দীপ্ত ভাষা,
নাকি অজানা কষ্টের চিরচেনা আশ্বাসা?

দিন শেষে আকাশে যে তারা জ্বলে,
তার আলোতে কি আমারই চোখ রোলে?
তাইতো আজ নিজেকে বলি সাহস করে—
চেনো, নিজেকে চিনে নাও সেই অদৃশ্য নায়ককে ভিতরে।

এই শুনছো?
এবার জবাব দাও নিঃশব্দে,
আমি আসছি—তোমাকে চিনতে,
ছুঁতে হৃদয় গভীর স্থলে।

১৭.৫.২০২৫