কারখানা প্রশাসন বিষয়ক কবিতা


আমরা প্রশাসন

  • মোঃ তৌহিদুর রহমান

আমরা নিত্য সেবা করি
সকাল দুপুর সাঝে
কারখানার ঐ ঘন্টা বাজাই
বিরতিহীন ভাবে

সঞ্চারিতে প্রাণ, করি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
পিকনিক, ইনডোর গেমস আছে যত
দিন কেটে যায় নব আমেজে
ক্লান্তি লাগেনা তত

সেজেছি ধোপা, হয়েছি ক্লিনার
করেছি বাগান, ধরেছি মেকার
গাড়ির চাকার লিক সারিয়ে
স্ক্র্যাপ সরাই প্রতিদিন
দিন কেটে যায় মহানন্দে
ভাবনাহীন প্রতিদিন

ভোর সকালে বের হয়ে ফিরি
বাসায় সন্ধ্যাবেলায়
কত কিছুই সামলাতে হয়
হেসে অবলীলায়

কঠিন মেহেনত, শত উদ্যোগ
নিতে হয় মাঠে নেমে
সব কিছু করা যায় কি প্রকাশ
রয়ে যায় অন্তরালে

স্টেশনারি ও ফটোকপির সেবা
নাইবা বললাম মুখে
তিরিশ দিনের পরিবহন সেবা
গাঁথা আছে এমপ্লয়িদের বুকে

বাবুর্চী, মেসিয়ার হয়ে মোরা
অন্ন তুলে দেই মুখে,
মন ভরে যায় যখন দেখি
তারা ‘চা’ খায় পরম সুখে

মালী হয়ে ফোটাই মোরা
বাগানের যত ফুল
ঝাড়ুদার হয়ে করি পরিস্কার
যেখানে আছে যত ময়লা, ঝুল।

জয়েন করাই, রিজাইন নেই
ট্রেনিং করাই, এপ্রন দেই
নিত্য নতুন মুখ
কলকাকলিতে ভরে থাকে
আমাদের এই বুক

হাসি মুখে সামলাই মোরা
ট্রেড ইউনিয়নের দাবী
ভিজিটরদের সম্মান আপ্যায়নে
খুলে যায় অপার সম্ভাবনার চাবি।

সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে বছর শেষে
সকলের করাই হেলথ চেকাপ,
লক্ষ্য থাকে সুস্থ দেহে-মনে
উৎপাদনে অংশ নিবো যে সবাই।

কঠিন হতে হই বাধ্য অসন্তোষ, অসদাচরনে
কোমল হয়ে যাই মোরা
মাতৃত্বকালীন ছুটি ও চাকুরী অবসানে
কঠিন-কোমলে মিশ্র হৃদয়
আমরা প্রশাসন
ছাড় দেইনা নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রশ্নে
চালু রাখতে নিরবিচ্ছিন্ন উৎপাদন।

০৮.০১.২০২২

এপ্রেইজাল

এপ্রেইজাল

  • মোঃ তৌহিদুর রহমান

বছর ঘুরে আবার এলো সেই দিন,
ফাইল ঘাঁটা, রিপোর্ট লেখা শুরু হলো তিন।
বসের চোখে কে প্রিয় আজ,
সেই ভাবনায় অফিসে বাজে সুরের সুরলাজ।

“তুমি খুব সিনসিয়ার, তবে আরেকটু করো ট্রাই…”
এই বলে বস দিলেন, গলা একটু টানাই।
পিছনের জন পেলো ইনক্রিমেন্ট পাঁচ,
আর তুমি চেয়ে রইলে—হাসি মুখে হাঁচ!

কে করেছে ওভারটাইম, কে লিখেছে প্ল্যান,
সবই হারিয়ে যায়, যদি না থাকে ‘ম্যান’-এর মান।
সেমিনার, ট্রেনিং, টিমওয়ার্কের গান,
সবই বৃথা, যদি না বাজে বসের তান।

HR বলল, “এই প্রক্রিয়া খুব ফেয়ার!”
আর তুমি ভাবো, “দেখছি শুধু ধোঁকার এক লেয়ার!”
তবু আবারো লিখো, SWOT আর Goal,
জীবনটা বুঝি এপ্রেইজালেরই scroll।

তবুও স্বপ্ন দেখি, একদিন আসবে সেই রাত,
যখন boss বলবে—“তুমি সত্যিই great asset!”
তখন হাসবে মন, দূর হবে হতাশা,
ফিরে আসবে office-এ আবারও
আশার আলোর প্রত্যাশা ।।

কতদিন…

কতদিন…

  • মোঃ তৌহিদুর রহমান

কতদিন … হয়না… দেখা
প্রাণ খুলে বলা হয়না কথা ….
ঠিক কতটা দিন…
হিসেব কষে বলতে পারব না।
হয়তো অনেকদিন হবে,
হয়তো এক নক্ষত্রসম সময়।

ঠিক যেমন…
আমার স্বর্গীয় পিতার সাথে
আমার বর্তমান সম্পর্ক।
লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকেও
অত্যাশ্চর্যভাবে
যাঁর অস্তিত্ব
প্রতিটি মুহূর্তে বিরাজমান।
ঠিক তেমনি…
তব অস্তিত্ব অনুভব
সর্বাঙ্গীন হৃদয়ে।

সময় গড়িয়ে যায়
আপনার নিয়মে।
সকাল থেকে রাত,
তাহাজ্জুদ থেকে এশা।
দিন—সপ্তাহ—মাস—বছর—যুগ।
কতটা কাল এভাবে পেরিয়ে যায় জীবন থেকে!

ইদানীং প্রায়ই মনে পড়ে
শৈশব-কৈশোরের সেই
দূরন্ত দিনগুলির কথা।
কি ডানপিটেই না ছিলাম,
মাটির হাড়ির ভাঙা টুকরো
আর রাস্তায় পড়ে থাকা
পরিত্যক্ত সিগারেট প্যাকেট—
স্টার, ক্যাপস্টেন, মার্লবোরো, কে-টু, বগা—
দিয়ে চলতো বন্ধুদের সাথে
মজার তাস খেলা
আর কিল-কিল খেলা।
সে এক মধুর ইতিহাস!

এক্কাদোক্কা, গাদোন, দাঁড়িয়াবান্ধা,
গোল্লাছুট, কানামাছি, ওপেনটুবায়োস্কোপ,
ডাংগুলি, লাটিম।
ঘরে চলতো কেরাম, দাবা, লুডু,
বাগাডুলি, চোর-পুলিশ—
আরও কত কি!
আহা, কি মধুর!
শৈশবের সেই দিনগুলি!

সম্বিত ফিরে আসে,
মনটা আজ সত্যিই ভীষণ আবেগপ্রবণ।
ঠান্ডা চোখে তাকাই চারিদিক,
দেখি স্নায়ুযুদ্ধ থেকে
শ্রমিকের সুযোগসন্ধানী দাবীর মিছিল।
জিম্মিদশা, বন্দীত্ব,
রক্তাক্ত ও টালমাটাল যুদ্ধশেষে,
অবশেষে আসে ভূমিধস জয়।
মানবতার জয়।
শক্ত হাতে ধরিলো হাল, ধরিলো যে নাবিক,
শান্ত হৃদয়ে কে তার রেখেছে খবর আজি,
শানিত হৃদয়ে বারবার ফিরে আসে তব স্মৃতি।

আজ এসেছে নতুন দিন,
স্নায়ুযুদ্ধ থেকে নিঃসঙ্গ পরিবর্তনের দিনে।
যেখানে সামনে রয়েছে, পেছনে না ফেরার বার্তা।
এ যুদ্ধ একান্তই নিজের সাথে নিজের,
যেখানে প্রতিটি মুহূর্তের দায়িত্ব
একান্তই আমার।

২৪.৪.২০২৫

রহস্য

রহস্য
— মোঃ তৌহিদুর রহমান

আমি জানি আমি কি,
তুমি জানোনা।
তুমি জানো তুমি কি,
আমি জানিনা।

তোমার আমার জানাজানি
মানুষ জানেনা,
তোমার আমার জানাজানি
মানুষ ভাবেনা।

মানুষ চেনে তোমাকে,
আমাকে চিনেনা।
আমি চিনি তোমাকে,
মানুষ জানেনা।

তুমি আমাকে জানো, কিন্তু
খুঁজতে চাওনা।
আমি তোমাকে জানি, কিন্তু
খুঁজেও পাইনা।

জানাজানির পালা
আমাদের শেষ হয়না।
তোমার পাল্লায় আমার মাপ
বুঝে পাইনা।

তুমি ব্যস্ত, আমি ব্যস্ত,
ব্যস্ত সারাদিন।
ভ্যালু অ্যাড করছি কিনা
ভাবি রাতদিন।

ভ্যালু অ্যাড করে থাকে
শুধু প্রোডাকশন,
আমরা শুধু করি
অপ্রয়োজনীয় অপচয় বিয়োজন।

মা

মা
— মোঃ তৌহিদুর রহমান

মায়াভরা তুমি,
মমতাময়ী তুমি,
অন্তহীন স্নেহের ধারা।

মা তুমি মা,
তোমার তুলনা—
খুঁজি বিশ্ব মাঝে বারম্বারা।

আছে যত প্রেম,
আছে যত আলো,
সবই ম্লান তোমার চরণতলে।

মা, তুমি অনন্ত আশ্রয়,
চির অমলিন, চির অপরাজেয়।

চন্দ্রনাথের চূড়া

 – মোঃ তৌহিদুর রহমান।

মনতো বসেনা কাজে

উড়ে উড়ে যায়

পাখির পাখায়

ঐ চন্দ্রনাথের চূড়ায়।

বারে বারে ছুঁতে চায়

পেতে চায় তোমায়

দাওনা ধরা আবার

ওগো চন্দ্রনাথ অয়োময়।

একি স্বপ্ন, নাকি মরিচিকা!

চিমটি দেহে বারে বার

সত্যিইকি করেছিলাম জয়

সুবিশাল ঐ চন্দ্রনাথের ভয়।

তমসার ঘোর কাটে না যেন

নিজেকে নিজেই চিনিনা কেন

কোথায় যেন হারিয়েছি নিজেকে

খুঁজে পায়না ধরাতল।

বিস্মিত আমি!

দিগ্বিজয়ী বীর আমি!

আজ নগ নাচে মোর পায়ের নীচে

অটল অবিচল!!

নব আকাশে সূর্য হাসে

মহীন্দ্র চন্দ্রনাথে

জয় হয়েছে আজ মোদের

সব বিশ্বাসী একসাথে।

শক্তিহীন, নিঃসঙ্গ আমি

কোথা পেলাম এত বল!

গহীন থেকে শব্দ আসে

‘এটা টিম বিল্ডিংয়ের ফল’!

করতে হবে টিম গঠন

সাজিয়ে গোলের থিম

লক্ষ্য থাকবে চূড়া জয়

থাকবেনা কোন ঝিম।

বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, সহযোগিতা

থাকবে পরস্পরে

একসাথে সবে লড়বো মোরা

বিন্দু বিন্দু জয়ে

সাগর, পাহাড় লক্ষ্যভেদী জয়

আনবোই মোরা ঘরে।।

২৫.০৯.২০২২

(টিম বিল্ডিং প্রোগ্রাম-৪ এ আমরা অনেক অনেক মজা করেছিলাম। হোটেল রেডিসন ব্লুতে আমাদের টিম পরিচিতি পর্বে আমার লেখা কবিতাটি সিওও এবং আরশাদ ভূঁইয়া স্যারের উপস্থিতিতে আবৃত্তি করে শুনিয়েছিলাম। কবিতা শুনে সবাই হাততালি দিয়ে আমাকে উৎসাহিত করেছিল। সত্যিই সেদিন খুব মজা হয়েছিলো।

We had a wonderful time at our Team Building Program-4. During the team introduction session at Hotel Radisson Blu, I had the opportunity to recite one of my own poems in the presence of our COO and MAA Sir. The audience responded with warm applause, which made the moment truly enjoyable. It was indeed a memorable and fun-filled day.)

ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল


ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল
– মোঃ তৌহিদুর রহমান

কবিতা আর আসে না মাথায়,
কি যে সব লিখি—
সারাক্ষণ বনবন করে মন,
দেখে না কিছু আঁখি।

আমি তো ভাবলাম বুঝি,
হবে না লেখা আর;
ভাবনাগুলো দেয় না দেখা,
খুলে না কোনো দ্বার।

হঠাৎ কি হলো আজি,
বাতায়নে নেই হাওয়ার খেলা—
শণ শণ বয়ে যায় প্রাণে,
মনে তোলে দোলা।

পড়িলো মনে,
যবে সেই ক্ষণে
উঠেছিলাম সবে
চন্দ্রনাথ চূড়ায়।

ওগো চন্দ্রনাথ,
আছো কেমন তুমি?
মনে কি রেখেছ মোরে—
জানো কি, তোমার পড়েছি প্রেমে?
বানিয়েছ কবি আমায় তুমি।

ফিরে এসে এ ধরায়,
ভাবি শুধু তোমায়—
হবে দেখা কবে আবার?
কেন হলো দেখা?
সে প্রশ্নই জাগে বারবার।

ভাবলেশহীন, অনুভূতিহীন,
আমি এক যাযাবর;
মনে জাগে নানা প্রশ্ন,
পাই না কোনো উত্তর।

চিত্তের অনেক পথ বেয়ে
ছুটে যায় সমান্তরাল রেল—
তবে কি কেউ করেছিল আমায়
ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল?

২৩.১০.২০২২


খুব মনে পড়ে


✦ খুব মনে পড়ে

– মোঃ তৌহিদুর রহমান

খুব মনে পড়ে সেই দিনের কথা,
যেদিন মিলেছিলাম সবে—
আপন অঙ্গনে, মনের গহিনে,
দুলে উঠেছিল ভুবন এ ভবে।

আহা, কত উচ্ছ্বাস!
প্রাণের স্পন্দন!
কত শ্বাস নিয়েছিলাম প্রাণভরে!
হঠাৎ আজিকে করছি স্মরণ—
বারবারই মনে পড়ে।

তোমাতে-আমাতে জমেছিল প্রেম,
বিশ্বাস আর ভালোবাসা;
তুমি ছাড়া বলো, চলে কি করে,
আমরা তো বন্দী একই ফ্রেমে ভাসা।

একি অপরূপ সাজে সেজেছিলাম মোরা,
আজো অমলিন সেই দিন;
মুছবে না কোনোদিন, হারাবে না কভু,
দল গঠনের সে অমূল্য ঋণ।

২৯.১০.২০২২


মনফুলগুলো ইদানিং 

– মোঃ তৌহিদুর রহমান


মনফুলগুলো ইদানিং
– মোঃ তৌহিদুর রহমান

উদাস দুপুর,
অনেকদিন প্রাণখুলে কথা বলা হয় না।
অট্ট হাসিতে ফেটে পড়া হয় না,
গান গাওয়া হয় না,
শিল্প-সাহিত্যের চর্চা করা হয় না।

তাহলে কি মনোজগতে আমার
ব্যাপক পরিবর্তন শুরু হয়েছে?
আমার আজন্ম লালিত সব বিশ্বাস,
ভালোবাসা, ভালোলাগার প্রদীপগুলো
কি তবে একে একে নিভে যাবে?

না, আমি তা মনে করি না।
কারণ—
চেয়ে দেখো, সবকিছু আছে আগের মতোই।
স্থান ও পাত্রের বহিরাবয়ব বদলেছে শুধু,
গড়িয়েছে সময়, পাল্টেছে দৃশ্যপট—
কিন্তু অন্তরাত্মার ভেতরে
মনফুলগুলো এখনো ফোটে নীরবে,
নিজস্ব আলোয়,
অদৃশ্য শিখার মতো দীপ্ত হয়ে।

১৩.৫.২৪


স্পর্শ

– মোঃ তৌহিদুর রহমান


স্পর্শ
– মোঃ তৌহিদুর রহমান

আজি প্রাণে লেগেছে
দক্ষিণা হাওয়ার ছোঁয়া,
বসন্তের সাজে সেজেছে
ভুবন জুড়ে নতুন রঙ-ঢেউ।

ভালোবাসার রঙতুলিতে
জেগেছে যৌবন—
কি নামে ডাকবো তোমায়?
অধরা? অপ্সরা? নাকি উর্বশী তুমি,
কেন রেখেছিলে এতকাল
নিজেকে অবগুন্ঠিত করে?

আহা মরি মরি! একি অপরূপ রূপ!
লভিনি আগে কোনোদিন—
কোথা লুকিয়ে ছিলে এতকাল,
নিজেকে আড়ালের আবরণে ❣️

লহ প্রেম মোর,
লভিতে স্বর্গোদ্যান;
তব প্রেমে হয়েছি বিলীন,
মরু থেকে মরুদ্যান।।

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৪।।


this poem has been written on the occasion of the Beximco Pharma Factory’s transformation, following the completion of the road marking work, as the factory emerges from its old from to new look.